বিচিত্র

$results={3}

যে লাইব্রেরির বই পড়তে হলে বাঁচতে হবে ১০০ বছর

২০১৪ সালের কথা। নরওয়ের রাজধানী অসলোর উত্তরে একটি বনে স্প্রুস নামের এক ধরনের বৃক্ষরাজি রোপণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য সুদূর ভবিষ্যতে যখন গাছগুলোর আকৃতি এখনকার চেয়ে ২০-৩০ গুণ বেশি হবে, তখন কিছু বিশেষ বই ছাপানোর জন্য এ বনের গাছ থেকে কাগজ তৈরি করা হবে।

বইগুলো ছাপানো হবে ১০০ বছর পর অর্থাৎ ২১১৪ সাল থেকে। আজব এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা স্কটিশ শিল্পী কেইট প্যাটারসন ও তার নরওয়েজিয়ান সঙ্গী অ্যান বিট হোভিন্ড। ‘ফিউচার লাইব্রেরি’ নামক এই প্রকল্পের সঙ্গে রয়েছে আরও একদল ট্রাস্টি। 

একুশ শতকে এসে আমরা আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য অনেক কিছুই রেখে যাচ্ছি। তবে তার বেশিরভাগই তাদের জন্য পৃথিবীতে বাস করা আরও কঠিন করে তুলবে: উষ্ণ পরিবেশ, সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য, ভূ-অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার বর্জ্য ইত্যাদি। একইসাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রজন্মের কথা এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে লম্বা সময়ের দৃষ্টিতে ধরার চেষ্টার অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে ফিউচার লাইব্রেরি। 

মার্গারেট অ্যাটউডের ‘স্ক্রিবলার মুন’ নামক একটি ছোটগল্পের পাণ্ডুলিপি দিয়ে এ লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। এরপর এ যাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন ইংরেজ ঔপন্যাসিক ডেভিড মিচেল, আইসল্যান্ডের কবি শিওন, তুরস্কের এলিফ শাফাক, দক্ষিণ কোরিয়ার হানক্যাং, জিম্বাবুয়ের লেখক সিতসি ড্যানগারেম্বগা ও নরওয়েজিয়ান লেখক কার্ল ওভ নসগার্ড এবং ভিয়েতনামিজ-মার্কিন কবি ওশেনভুওং প্রমুখ। 

বঙ্গসভা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় লেখাটি

প্রতিবছর একজন প্রখ্যাত লেখককে তার একটি পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় বার্ষিক উৎসবে। সাহিত্যিকেরা তাদের পাণ্ডুলিপির কোনো অংশ প্রকাশ করতে পারেন না, কেবল শিরোনাম জানাতে পারেন। এ প্রক্রিয়া চলবে আগামী ২১১৩ সাল পর্যন্ত। এরপর ১০০ বছরের জমা পড়া সব পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করবে ফিউচার লাইব্রেরি। ভবিষ্যৎ লাইব্রেরি পরিচালকেরা যদি মনে করেন তারা কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করবেন না, তাহলে ওই লেখককে তার জন্য আক্ষেপ করতে হবে না। কারণ তিনি তত দিনে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেবেন। এ বিষয়টিকে নিজেদের জন্য স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন পা-ুলিপি জমা দেওয়া বর্তমানের অনেক সাহিত্যিক।

ভবিষ্যতের মানুষদের কথা ভেবে নির্মাণ করা এই লাইব্রেরির মধ্য দিয়ে বর্তমানের আনন্দকে ত্যাগ করা হচ্ছে কিনা এমন কথাও উঠেছে অনেক সময়। তবে ভবিষ্যৎকে কিছু দেওয়ার জন্য বর্তমান সময় থেকে কিছু নেওয়ার দরকার নেই এমনটা বলে আসছে ফিউচার লাইব্রেরি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে যে সম্ভাবনাগুলো থাকতে পারে, তার প্রতি একটি আত্মবিশ্বাসের বার্তা হতে পারে এ লাইব্রেরিটি।

মূল লেখা: রিচার্ড ফিশার, বিবিসি

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

Contact Form